মঙ্গলবার ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“If you fail the exam, there is no way for anyone to survive,” Education Minister ANM Ehsanul Haque Milon

  |   শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট

“If you fail the exam, there is no way for anyone to survive,” Education Minister ANM Ehsanul Haque Milon

রাজশাহী প্রতিনিধি :“সামনে পরীক্ষা। তাতে তুমি ফেল করলে, ছয় মাস পর আমিও ফেল। কারও বাঁচার উপায় নেই।”

শনিবার সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে ‘আঞ্চলিক স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’ সেমিনারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এসব বলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

এ সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা ও সংকটের কথা শোনেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষার্থীরা তাদের নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখার মেশিনারিজ ও ল্যাবের সব যন্ত্রপাতি পুরোনো বলে জানান।

কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে সরকার কাজ করবে জানিয়ে মিলন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কারিগরি শিক্ষায় যত টাকা লাগে, তা দেবেন। কিন্তু আমি তো নিতে পারছি না। কত নেব, কীভাবে নেব, কোথায় খরচ করব? আমাকে তো প্রকল্প হাতে নিতে হবে।

“যেখানে যেখানে সমস্যা, সেখানে কাজ করব। তা সমাধানে প্রকল্প হাতে নেব। সেজন্য আমরা শিক্ষার্থীদের কথা শুনছি। ওরা কী চায়, সেটা জানার চেষ্টা করছি।”সমস্যা ও সমাধান নিয়ে লিখিত দেওয়ার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। সরকার এ শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের উন্নয়নে পার্থক্য গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। শিল্পক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা প্রদান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সময় অপচয়ের কোনও সুযোগ নেই।

শিক্ষামন্ত্রীকে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরে এক শিক্ষক বলেন, পলিটেকনিকের ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে যাচ্ছে। ঝরে পড়া ঠেকাতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে অনুরোধের পাশাপাশি সাত বছর ধরে চাকরি করলেও বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করেন তারা। এ সময় মন্ত্রী তাদের পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে আত্তীকরণ করার আশ্বাস দেন।

আরেক শিক্ষক বলেন, ১৯৬৩ সালে নির্মিত ভবনে ক্লাস ও ল্যাবের কাজ চালাতে হচ্ছে। মেশিনারিজ বলতে কিছুই নেই। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় পড়ানোর জন্য যেসব সুবিধা দরকার, তার কিছুই নেই। ফলে শিক্ষকরা চাইলেও শেখাতে পারেন না।

অর্থনৈতিকভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে একটি অভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সামাজিক বৈষম্যহীন একটি একক শিক্ষা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে; যা দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত।

মিলন বলেন, “কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। এমন শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন, যেখানে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ পাবে এবং সেই জ্ঞান দেশের উন্নয়নে সরাসরি কাজে লাগাতে পারবে।

“জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো দেশগুলো কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমেই বিশ্বে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। এ ধরনের শিক্ষা মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে; যা তাদের জীবনমান পরিবর্তনে সহায়ক। সেইসঙ্গে এটি দেশের উন্নয়ন, পরিবারের অগ্রগতি এবং সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলূর রশীদ। পরে শিক্ষামন্ত্রীসহ অতিথিরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল পরিদর্শন করেন।

আয়োজকরা জানায়, আঞ্চলিক স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশনে ২৮টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা তাদের ৮৪টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করেন। যার মধ্য থেকে ছয়টি উদ্ভাবনী আগামী ২৭ মে ঢাকায় জাতীয় পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত করা হবে।

 

Facebook Comments Box

Posted ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

https://thedaynewsbd.com |

Publisher
shahin islal
Editor
abdur rashid
Office Address

Dhaka