| শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট

বিশেষ প্রতিনিধি :আগের অর্থবছরের তুলনায় পণ্য রপ্তানি কমে যাওয়ায় এবং রোজার পণ্য আমদানির চাপ বাড়ায় গেল ফেব্রুয়ারি শেষে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্য ঘাটতির যে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে ফেব্রুয়ারি শেষে চলতি অর্থবছরের আট মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৯১ দশমিক ৩০ লাখ ডলার।
এটি আগের মাস জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের চেয়ে ৩১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার বেশি।
বিশ্লেষকের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে বাণিজ্য ঘাটতি আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৩৭০ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
এ হিসাবে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের আট মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩২০ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
এই সময়ে রপ্তানি কমে গেলেও নির্বাচন ও রোজা উপলক্ষে রেমিটেন্সের পালে হাওয়া লাগায় বৈদেশিক বাণিজ্যর কয়েকটি সূচকের মধ্যে আর্থিক হিসাব ও সার্বিক বাণিজ্য ভারসাম্য হিসাবে উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে চলতি হিসাবের ঘাটতির পরিমাণও কমেছে, বলছে প্রতিবেদন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশের সার্বিক বাণিজ্য ভারসাম্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৩৪২ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
একইভাবে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত বেড়ে হয়েছে ৪০৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের ৮ মাসে ছিল ৪৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
অবশ্য চলতি হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ আরও বেড়ে হয়েছে ১০০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের আট মাসে ছিল ১৪৭ কোটি ২০ লাখ ডলার।
পরিবহন, ভ্রমণ, সরকারি-বেসরকারি বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ও অন্যান্য পরিষেবার জন্য অর্থ প্রদান ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সেবা খাতের ঘাটতি বেড়ে ৩৮৪ কোটি ৪০ লাখ ডলাল।
আগের বছরের এই সময়ে যা ছিল ৩৫২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় এ খাতে ঘাটতি বেড়েছে ৩১ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
রোজার মাসে বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়ে গিয়ে বাণিজ্য ঘাটতি সামালা দিতে সহযোগিতা করেছে।
রেমিটেন্স প্রবাহ না বাড়লে ঘাটতি আরো বেড়ে যেতো বলে মনে করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক এজাজুল ইসলাম।
ডে নিউজকে তিনি বলেন, “আমাদের রপ্তানি কমেছে এই সময়ে। যুদ্ধ তো তখনো শুরু হয়নি। যুদ্ধের জন্য আমদানি খরচ যেভাবে বাড়ছে, তার প্রভাব মার্চের হিসাবে আসবে। তাতে বাণিজ্য ঘাটতি আরো বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে, কারণ হলো আমাদের রপ্তানি তো বাড়েনি।”
যুদ্ধবিরতি থাকলে মার্চে করা এলসি বা ঋণপত্রের পরিশোধ এপ্রিলে এসে ঠেকবে। এপ্রিল শেষে রপ্তানি আয় আশাব্যাঞ্জক না হলে চলতি মাস শেষে বাণিজ্য ঘাটতিকে আরও চাপে ফেলতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের আট মাসে আমদানি হয়েছে ৪৬১ কোটি ৭ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে গেল আট মাসে রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ৯২৬ কোটি ১০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আট মাসে রপ্তানি হয় ৩ হাজার ৩০০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এ হিসাবে চলতি অর্থবছরের আট মাসে রপ্তানির তুলনায় আমদানি দায় পরিশোধ করতে হয় ১ হাজার ৬৯১ কোটি ৩০ লাখ ডলার বেশি।
এ বাণিজ্য ঘাটতি পূরণ করতে এগিয়ে আসে রেমিটেন্স ও বৈদেশিক ঋণ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আট মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স এসেছে ২ হাজার ২৪৫ কোটি ডলার।
আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। সে সময়ে রেমিটেন্স আসে ১ হাজর ৮৪৯ কোটি ডলার।
Posted ১২:০৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
https://thedaynewsbd.com | admin