| বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট

ত্রিশাল(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধিঃ নুরুজ্জামান :
ময়মনসিংহের ত্রিশালে ৩ বছরের নিষ্পাপ শিশু লাবিব হত্যাকাণ্ডের নৃশংস এক ঘটনায় নাড়িয়ে দিয়েছে জনপদকে। তবে ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রহস্যের জট খুলে ঘাতক বাবা সোহাগ মিয়া ও সৎ মা জাকিয়া আক্তারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পারিবারিক কলহের জের ধরে নিজ সন্তানকে গলা টিপে হত্যার লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি দিয়েছে ঘাতক পিতা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক অশান্তির কারণে শিশু লাবিবের মা লামিয়া দীর্ঘদিন ধরে তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে বাবা সোহাগ মিয়া শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আদর করে সন্তানকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। সন্ধ্যায় নানার বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, শিশুটি ফিরেছে নিথর দেহ হয়ে। ওইদিন সন্ধ্যায় রায়ের গ্রাম এলাকার একটি রাস্তার পাশে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা।
হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার পরপরই ত্রিশাল থানা পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নামে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতকের অবস্থান নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ভোররাতে গফরগাঁও উপজেলার যশোরা ইউনিয়নের বাখুরা গ্রামে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই মূল অভিযুক্ত সোহাগ মিয়া (৩০) ও তার সহযোগী সৎ মা জাকিয়া আক্তারকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে পাষণ্ড পিতা সোহাগ মিয়া স্বীকার করেছেন, তিনি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজের সন্তানকে নিজ হাতে গলা টিপে হত্যা করেছেন। হত্যার পর মরদেহটি নির্জন রাস্তার পাশে ফেলে রেখে আত্মগোপন করেন। তার এই লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি পুলিশের তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর মা লামিয়া বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে গ্রেফতারকৃত সোহাগ মিয়াকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের জন্য বিজ্ঞ আদালতে এবং অপর আসামি জাকিয়া আক্তারকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
ত্রিশাল থানা অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ আহমেদ জানান, ঘটনার পরপরই দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য আইনি কার্যক্রম যথাযথভাবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
Posted ১১:১১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
https://thedaynewsbd.com | admin